একজন পাঠকের জীবনের সবচাইতে বড় স্বার্থকতা সম্ভবত লেখকদের কাছ থেকে বই উপহার পাওয়া। আমার এরকমই মনে হয়। লেখকরা যখন ইনবক্সে ঠিকানা নিয়ে বই পাঠায় কিংবা দেখা নিজের বই গিফট করে, সেটা খুব বড় ব্যাপার।
কবি Imrul Hassan যখন প্রথম দেখা করতে আসলেন, নিজের এক গাদা বই নিয়ে আসলেন। ইমরুল ভাই বেশ সুপুরুষ মানুশ। আমি একবার উনার দিকে তাকাই আবার বইয়ের দিকে। উনার লেখালেখি নিয়ে মুগ্ধতা তো আগে থেকেই ছিলো। আমার কাছে বেশ কিছু দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ আছে, উনি সেগুলোর একটা নিতে চাইলেন। সাধারণত কেউ বই চাইলে ধার না দিয়ে গিফট দিয়ে দেই। কারণ, লোকজন বই নিয়ে ফেরত দেয় না। একই কারণে দুর্লভ বইগুলো কেউ চাইলেও দেই না, লুকিয়েই রাখি বলা যায়। উনি সেরকম একটা বই চাইলেন, দিয়ে দিলাম। আমাকে আরো অবাক করে দিয়ে উনি সেই বই ফেরতও দিলেন কিছুদিন পর। আমার জীবনে দেখা একমাত্র লোক যিনি বই পড়তে নিয়ে ফেরত দিছেন। আপনারাও উনাকে বই ধার দিতে পারেন।
ঔপন্যাসিক সালাউদ্দিন শুভ্র, কবি মৃদুল মাহবুবসহ আরো যারা বই পাঠিয়েছিলেন— তাদের কথাও লিখতে শুরু করেছিলাম; লেখা বড় হয়ে যাচ্ছে। আরেকদিন। বরং গত এক মাসে যাদের বই পেলাম তাদের নিয়ে বলি:
Book 4.0 প্রজেক্টের ঘোষণা দেয়ার পর লেখক ও অনুবাদক Mizan Rahman একদিন ইনবক্স করে বললেন দেখা করতে চান। সাথে নিয়ে এলেন ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভির 'আল মুহাদ্দিসাত' এর অনুবাদ। মিজান রহমান, Mardia Mumtaz এবং আরো চারজন মিলে অনুবাদ করেছেন। বইটায় একনজর চোখ বুলিয়ে মনে হলো পড়ে ফেলা উচিত। নারীদের হাদিস চর্চার ইতিহাস হলেও এতে নারীদের জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব ও ইসলামে নারীদের সম্মানজনক অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ন সব তথ্য রয়েছে। পুরোটা পড়া শেষ হলে ত্রিভুজ ডট নেটে রিভিউ দেয়ার ইচ্ছে আছে।
Aminul Mohaimen ইনবক্সে যোগাযোগ করে উনার লিখিত 'বিশ্বনবি (সা.)' পাঠালেন। রোজার মাসে সাধারণত আমি নতুন একটা কোরআনের অনুবাদ পড়ি। এবার ঠিক করেছিলাম রাসুল (সা.) এর জীবনি পড়বো। উনি বইটা পাঠাবেন শুনে মনে হলো— বেশ! আল্লাহ মনে হয় তাই চাইছিলেন। বইটা হাতে পাওয়ার পর একনজরে ইন্টারেস্টিং মনে হলো। এই বিষয়ে আরেকটা বিস্তারিত পোস্ট দেব এবং কমেন্টে তার কিছু আভাস রাখলাম।
বাংলায় একটা কথা আছে— ভয় মিশ্রিত শ্রদ্ধা। Faizul Latif Chowdhury স্যারের ব্যাপারে আমার অনুভূতি অনেকটা এরকমই। কয়েকদিন আগে উনি যখন বই পাঠাতে চাইলেন, তখন নতুন একটা অনুভূতিটা হলো যেটাকে 'ভয় মিশ্রিত লজ্জা ও আনন্দ' বলাই সম্ভবত ঠিক হবে। কারণ, এই বই মেলায় 'কক্সবাজার' নামে যে উপন্যাস উনি বের করেছেন, এটা আমার উইশ লিস্টে ছিলো। একবার বইয়ের সাইটগুলোতে সার্চও দিয়েছিলাম, তখনো সদ্য প্রকাশিত হওয়াতে হয়তো এভেইলেবল ছিলো না। আমি কেনার আগেই উনি বই পাঠাতে চাচ্ছেন, এটাই লজ্জার কারণ।
জীবনানন্দ দাশ নিয়ে স্যারের কাজগুলো নিয়েও আগ্রহ ছিলো। বই পাঠাবেন শুনে ভেবেছি হয়তো 'কক্সবাজার' পাঠাবেন শুধু। পরে দেখি একগাদা বই। জীবনানন্দ দাশ নিয়ে দু'টো বই যার ভেতরে একটি আবার জীবনানন্দ দাশের নিজের হাতের লেখা খাতার ছবি। চমৎকার!
দুর্দানা খানের চিঠি খুলে বুদ্ধদেব গুহের সবিনয় নিবেদনের কথা মনে পড়ে গেল, সেই ১৯৯৮ সালে পড়েছিলাম, স্কুলে থাকতে। আপনারা যে খাঁজকাটা খাঁজকাটা কুমিরের গল্প বলেন, এটা ঐ বইয়ে প্রথম পড়েছিলাম। ওখানে কুমিরকে 'কুমিল' লিখেছিলো, যতদূর মনে পড়ে। যাহোক, দুর্দানা খানের প্রথম চিঠিটা পড়ে মজা পেয়ে গেছি। বাকীটুকু পড়ার অপেক্ষায়।
আপাতত অন্য বইগুলোর পাশাপাশি 'কক্সবাজার' উপন্যাসটা পড়ছি। এই বইটায় হুমায়ূন আহমেদকে উৎসর্গ করেছেন। উৎসর্গ পত্রে যা লিখেছেন, এই আক্ষেপ আমার নিজেরো আছে। হুমায়ূন আহমেদের কাছের মানুশ Faizul Latif Chowdhury স্যারের বই গিফট পেয়ে সেই আক্ষেপ কিছুটা কমেছে। আমার সায়েন্স ফিকশনটা প্রকাশ করার আগে স্যারকে দেখাতে পারলে সেই আক্ষেপ পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে।
কাজ করি তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে, বাদবাকী সব ভালো লাগা থেকে করা। নতুন কিছু শিখতে ভালো লাগে। গেমিং, বই পড়া, ফটোগ্রাফি, ভ্রমণ করা হয় ভালো লাগার জায়গা থেকে। আর ভালো লাগে চিন্তা করতে। সেসব চিন্তার কিছু কিছু প্রকাশ করবো এখানে।